ষ্টাফ রিপোর্টার।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণায় তৎপর রয়েছেন তারা।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী।
তবে বিএনপি, জামায়াত ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে বাকি প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে জোরেসোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, গ্রামে-গঞ্জে উঠান বৈঠক, ছোট-বড় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিয়ে, মৃত্যু, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন।
নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি এড. নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল), ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, কুলাউড়ার প্রত্যেক চা বাগানে বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। চা শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। যেহেতু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে নেই।
রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে চা-শ্রমিকরা বিএনপিকেই বেছে নেবে এবং ধানের শীষে ভোট দেবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে- বিষয়টি জনগণের কাছে পরিস্কার। তাই কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কুলাউড়াবাসী, বিশেষ করে চা-শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন বিএনপির পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী বলেন, কুলাউড়া আসনে অতীতে একাধিকবার অন্য দলগুলোকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত উন্নয়নই হয়নি। মানুষের ধারণা জন্মেছে, এবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী যাবে এবং কুলাউড়ার সন্তান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেন কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষে অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, বিগত দিনে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদে আমি দুইবার ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুলাউড়াবাসীর উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্য এমপি পদে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনী প্রচারণায় সব শ্রেণির ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি বিজয়ী হব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা আগের চেয়ে অনেকটা সোচ্চার বলে মনে করছেন ভোটাররা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনেই সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটার, চা-শ্রমিক এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা হলো তিন লাখ তিন হাজার ২০। পোস্টাল ভোট পঁচ হাজার ৫৯১। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৩টি।
সম্পাদক: ময়নুল হক পবন, প্রকাশক: রিয়াজুল হক রেজা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোহাম্মদ জয়নুল হক.
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়,কামাল প্লাজা (১ম তলা), কুলাউড়া, মৌলভীবাজার,ফোন: ০১৭১১-৯৮৩২৬৯
ঠিকানা: 𝐃𝐮𝐛𝐚𝐢 𝐈𝐧𝐯𝐞𝐬𝐭𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐩𝐚𝐫𝐤 𝐃𝐈𝐏, 𝐀𝐥 𝐁𝐚𝐲𝐚𝐧 𝐁𝐮𝐢𝐥𝐝𝐢𝐧𝐠 𝟐𝟎𝟏𝟏, 𝐏.𝐎 𝟏𝟎𝟎𝟏𝟐𝟏- 𝐃𝐮𝐛𝐚𝐢. সংবাদ, ছবি ও বিজ্ঞাপন পাঠানোর ঠিকানা: Email: kulauradorpon@gmail.com ওয়েবসাইট: www.kulaurardarpan.com,
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত