স্টাফ রিপোর্টার।। কুলাউড়া উপজেলায় একটি সেতু স্বপ্ন দেখাচ্ছে সেখানকার বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক জনপদকে নতুন সম্ভাবনার আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠার। তবে উপজেলার রাজাপুরে মনু নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু পুরোপুরিভাবে চালু হওয়ার আগেই পড়েছে হুমকির মুখে।
স্থানীয়রা জানান, মনু নদী ও এর ওপর অবস্থিত সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ধরে গড়ে উঠছে প্রান্তিক প্রগতির তীরে উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা; যা উপজেলার সীমান্তবর্তী হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের মতো বিচ্ছিন্ন জনপদকে সরাসরি যুক্ত করতে যাচ্ছে সদরের সঙ্গে। ভবিষ্যতে এই সেতুই চাতলাপুর স্থলবন্দর ও সম্ভাবনাময় শমশেরনগর বিমানবন্দরের (সচল হলে) সঙ্গে যোগাযোগের মূল মাধ্যম হয়ে উঠবে; যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজাপুর সেতু কুলাউড়া সদর ও প্রান্তিক অঞ্চলের মাঝে সড়ক যোগাযোগে বিপ্লব ঘটাবে, এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের এমন স্বপ্নে বাদ সাধছে স্থানীয় বালুখেকো চক্র। জানা গেছে, চক্রটি বিধি ভঙ্গ করে মনু নদীর ওপর রাজাপুর সেতুর অর্ধ কিলোমিটার অংশের মধ্যে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে হুমকিতে রয়েছে নদীর তীর ও সেতুটি। নতুন মহালদার বালুমহাল ইজারা গ্রহণের পর ফের সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে পূর্ববর্তী মহালদারের সময় একই স্থান থেকে নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার উপজেলার পৃথিমপাশা ও হাজীপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী মনু নদীর রাজাপুর সেতু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেতুর অর্ধ কিলোমিটারের ভেতরে ৬ থেকে ৭টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে লাগাতার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। চলতি বাংলা সনের বালুমহাল ইজারা গ্রহণের পর নতুন মহালদারের লোকজন নদীর এই অংশ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। এদিকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে এরইমধ্যে গজভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পার্শ্ববর্তী মাঠের কাছে এবং সেতুর উজান ও ভাটি উভয় দিকে নদীর পার ধসে পড়তে শুরু করেছে। তাছাড়া সেতুর ভিত থেকে বালু সরে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজাপুর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সম্পূর্ণভাবে চালু হয়নি সেতুটি। নিয়ম না মেনে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে রাজাপুর সেতুর নিচের গার্ডারের পাশের স্থান থেকে বালু সরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে করে সেতুটির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুল হক বলেন, কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র রাজাপুর সেতুটির কাজ দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৮ সালের আগে রাজাপুর সেতুর কাছ থেকে কখনও বালু উত্তোলন করা হতো না। সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে আইন না মেনে অবাধে সেতু এলাকার অর্ধ কিলোমিটারের ভেতর থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন মহালদাররা।
কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, সেতুর এক কিলোমিটারের বাইরে থেকে বালু তোলার সরকারি নিয়ম রয়েছে। ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
সম্পাদক: ময়নুল হক পবন, প্রকাশক: রিয়াজুল হক রেজা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোহাম্মদ জয়নুল হক.
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়,কামাল প্লাজা (১ম তলা), কুলাউড়া, মৌলভীবাজার,ফোন: ০১৭১১-৯৮৩২৬৯
ঠিকানা: 𝐃𝐮𝐛𝐚𝐢 𝐈𝐧𝐯𝐞𝐬𝐭𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐩𝐚𝐫𝐤 𝐃𝐈𝐏, 𝐀𝐥 𝐁𝐚𝐲𝐚𝐧 𝐁𝐮𝐢𝐥𝐝𝐢𝐧𝐠 𝟐𝟎𝟏𝟏, 𝐏.𝐎 𝟏𝟎𝟎𝟏𝟐𝟏- 𝐃𝐮𝐛𝐚𝐢. সংবাদ, ছবি ও বিজ্ঞাপন পাঠানোর ঠিকানা: Email: kulauradorpon@gmail.com ওয়েবসাইট: www.kulaurardarpan.com,
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত