
প্রিয় কুলাউড়াবাসী, আসসালামু আলাইকুম / আদাব
আমাকে ভুল বুঝবেন না। এডভোকেট নবাব আলী আব্বাস খান অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। আমি সবসময় উনাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। তিনি নিজেও আমাকেও অত্যন্ত স্নেহ করেন। কিন্তু নির্বাচন কোনো আবেগের বিষয় না।
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন এমপি একটি নির্বাচনী এলাকার অভিভাবক। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন করার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সকল উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সহ সালিশ-বিচার পর্যন্ত তাকে মনিটরিং করতে হয়।
প্রিয় কুলাউড়াবাসী, আমরা ভুলিনি ২০০৮ সালে কুলাউড়া উপজেলার মানুষ ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এডভোকেট নবাব আলী আব্বাস খানকে এমপি নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু আমরা কী দেখেছি? তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এই পদের স্টিয়ারিং চলে যায় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রেনুসহ আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার হাতে। নির্বাচিত এমপিকে কিক আউট করে তিনি পুরো কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে নেন। তখন স্থানীয় এমপির মাধ্যমে মানুষ যেমন পায়নি কোনো উন্নয়ন, ঠিক তেমনি বিভিন্ন আপদে-বিপদে আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারস্থ হতে হতো। এতে কুলাউড়া উপজেলার সর্বসাধারণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছিল। এমনকি কিছু দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় এমপিকে পাশ কাটিয়ে সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সৈয়দা জেবুন্নেছা হককে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে কুলাউড়া নিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় এমপি এডভোকেট নবাব আলী আব্বাস খান নিজের এনজিও ‘প্রচেষ্টা’র উন্নয়ন ব্যতীত কুলাউড়া উপজেলার মানুষের জন্য আর কিছুই করতে পারেননি।
এমনিভাবে ১৯৮৮–৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টির এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলার এমপি থাকাকালীন তিনি কুলাউড়া উপজেলার উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারেননি। তাহলে কেন বারবার এমপি হতে হবে?
বরং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলনের সময় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম), সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে অনেক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কাউকাপন বাজারে এমন একটি জনসভায় তাঁর কটুক্তির পর আমি ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছিলাম।
এছাড়া হাজীপুর ইউনিয়নের জদিদ হায়দার চৌধুরী ইন্তেকাল করার পর এবং জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে মওলা চৌধুরী ফুয়াদ আমেরিকা পাড়ি দেওয়ার পর কুলাউড়া উপজেলায় তিনি ব্যতীত আর কেউ জাতীয় পার্টি কাজী জাফর করে কি না, আমার জানা নেই।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২৫) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করা হয়েছে। এখন জোট গঠন করে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন করতে পারলেও নিজ দলের প্রতীক ব্যতীত অন্য কোনো প্রতীক পাবেন না। এই অবস্থায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিপরীতে পাশ করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছেন—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। কিন্তু এও বলেছেন—দলের চেয়ে দেশ বড়। আর এই দেশ মানে গ্রাম, শহর, জেলা, উপজেলা।
আমি মনে করি, কুলাউড়া উপজেলার মাটি ও মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী এবং কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ সময়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সাজল—এইজনের যেকোনো একজনকে বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হলে সহজে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মাটি ও মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়ের সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আব্দুল বাছিত বাচ্চু
সিনিয়র সাংবাদিক
সাবেক চেয়ারম্যান, ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।